প্রকাশকালঃ ১৬ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:৫৮ সময়

অগ্নিঝরা মার্চের এই দিনটিতেও গোটা দেশ চলে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে। এদিন ঢাকায় একমাত্র প্রেসিডেন্ট হাউস ছাড়া সবখানে কালো পতাকা উড়েছে। কিছু সরকারি দপ্তর ছাড়া সব অফিস-আদালতে চলে বাঙালির ধারাবাহিক কর্মবিরতি। ফলে গোটা দেশের প্রশাসন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
পাশাপাশি সারাদেশে সভা-সমাবেশ ও মিছিল-শোভাযাত্রা থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চলমান মুক্তিসংগ্রামে যে কোনো ত্যাগ শিকারের দৃঢ়সংকল্প ব্যক্ত করা হয়।
সকালে প্রেসিডেন্ট হাউসে (বর্তমান ফরেন সার্ভিস একাডেমি, সুগন্ধা) কড়া সামরিক পাহারায় বসে ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক। সাদা গাড়িতে শোকের প্রতীক কালো পতাকা উড়িয়ে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বঙ্গবন্ধু। বেলা ১১টায় কোনো পরামর্শদাতা ছাড়াই শুরু হয় দুজনের একান্ত আলোচনা। এ বৈঠক চলাকালে প্রেসিডেন্ট হাউসের অদূরে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসংখ্য ছাত্র-জনতা। থেকে থেকে তাদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে কেঁপে উঠছিল চারপাশ। টানা আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট হাউসের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা চলবে। কাল সকালে আবার আমরা বসছি।’
সেখান থেকে বেরিয়ে বঙ্গবন্ধু সোজা চলে যান তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে। সেখানে তিনি দলের শীর্ষস্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনা চলে বিকেল পর্যন্ত। রাত ৮টায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। আলোচনার এক ফাঁকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন কনভেনশন মুসলিম লীগপ্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরী। অন্যদিকে এদিনও বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে মানুষের ভিড় লেগে ছিল। সর্বস্তরের মানুষকে সংকট থেকে উত্তরণের নানা পথ ও নির্দেশনা দেন বঙ্গবন্ধু।
এদিকে ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা, রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরের নেতৃত্বে চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা এবং বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ডাক বিভাগের কর্মীরা মিছিল-সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ব্রতচারী আন্দোলনের অনুশীলন শুরু হয়। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিল্পী-সাহিত্যিকরা কবিতা পাঠ ও গণসংগীত এবং ধানমন্ডিতে বুলবুল ললিতকলা একাডেমির শিল্পীরা দেশের গান পরিবেশন করেন।
ময়মনসিংহের জনসভায় ন্যাপপ্রধান মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু এবং পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলি ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।